Admission

২০২২ সালের এসএসসি-এইচএসসির সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রকাশ

২০২২ সালের এসএসসি-এইচএসসির সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রকাশ হয়েছে। মহামারী করোনার কারনে পুরো পৃথিবী অনেক পিছিয়ে গেছে। এককথায় মানুষের জীবন যাত্রার মান অনেক পিছিয়ে গেছে। মানুষ চাকরি হারিয়েছে,শিক্ষার্থীরা মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে,ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেক পিছিয়ে পরেছে। ২০২২ সালের এসএসসি-এইচএসসির ও সমমান পরীক্ষার জন্য পুনর্বিন্যাস করা সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) শিক্ষা বোর্ডগুলোর কাছে নির্ধারিত সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি পাঠায়। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসহ দেশের অন্য শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছে তা পাঠিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া এনসিটিবি এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে পাঠ্যসূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত দুটি নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এনসিটিবি থেকে পাঠানো ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি পাঠানো হলো।

পুনর্বিন্যাস করা পাঠ্যসূচির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলো। আগামী ১৩ জুন থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এ পাঠ্যসূচি প্রকাশ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তা পাঠানো হলো। এর আগে গত বুধবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এবার পরীক্ষা ছাড়াই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পাস দেওয়ার সুযোগ কম। দেওয়া ঠিকও হবে না। এ বছর সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে ৬০ দিন ক্লাস করিয়ে এসএসসি এবং ৮৪ দিন ক্লাস করিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী বছরের (২০২২) এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও হবে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে। এ জন্য এসএসসি পরীক্ষার জন্য ১৫০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ১৮০ দিন ক্লাস করানোর জন্য সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়া এসকল শিক্ষার্থীর জন্য আগামী জুন থেকে সপ্তাহে দুটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ১২ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে পরদিন ১৩ জুন থেকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ১৩ জুন উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়টি নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের টিকা দেওয়ার ওপর। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (২৯ মে) পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এখন তা বাড়ল। করোনাভাইরাসের কারণে ১৪ মাস ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। এ কারণে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে।

ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেকে ঘাটতি নিয়ে ওপরের ক্লাসে উঠছে। কতটুকু শিখলো শিক্ষার্থীরা,সেটাও যাচাই করা যাচ্ছে না। কয়েক দিন আগে একটি বেসরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ প্রাথমিকের ১৯ শতাংশ এবং মাধ্যমিকের ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী শিখতে না পারার বা শিক্ষণঘাটতির ঝুঁকিতে আছে।এমন অবস্থায় শিক্ষার এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ দিচ্ছেন শিক্ষাবিদেরা।

তাঁদের অনেকে যেসব এলাকায় সংক্রমণ নেই বা কম, সেসব এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ারও সুপারিশ করেছেন।করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু যেন ভিন্ন রুপ ধারণ করেছে।এককথায় কোনকিছু আর স্বাভাবিক নেই পৃথিবীতে।সুতরাং,আমাদের সকলের উচিত সাবধানে থাকা এবং সরকারের দিক নির্দেশনা মেনে চলা।এছাড়াও শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেতে আমাদের সাথেই থাকুন সবসময়।

সূত্রঃপ্রথম আলো

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Adblock Detected

Please Disable your AdBlocker.